ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিপিসির কাছে বিদেশি কোম্পানিগুলোর পাওনা ৬ হাজার কোটি টাকা, ডলার-সংকটে পরিশোধ করতে পারছে না, বিল পরিশোধ না করলে সেপ্টেম্বরে তেল পাঠাবে না কোম্পানিগুলো ।

Aug 14, 2024 - 11:13
 0  57
ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল সরবরাহকারীদের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির কাছে বিদেশি কোম্পানিগুলোর পাওনার পরিমাণ ৫০ কোটি ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দাঁড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে আমদানিকৃত পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেলের দাম পরিশোধ না করলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ে তেল আমদানি করা যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিসি এবং তেল বিপণনকারী তিনটি কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৯২ শতাংশ  আমদানি করা হয়। নিয়মিত খুচরা মূল্য সমন্বয় করায় বর্তমানে প্রতি মাসে তেল বিক্রি থেকে যে পরিমাণ টাকা আয় হয় তা দিয়েই আমদানি বিল পরিশোধ করা সম্ভব। বরং বিক্রীত অর্থ থেকে কিছু লাভও হয় বিপিসি এবং বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের। কিন্তু আমদানি হয় মার্কিন ডলারে। আর দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি থাকায় সময় মতো নির্ধারিত পরিমাণ বিল পরিশোধ করতে পারছে না বিপিসি। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে ধারাবাহিক যোগাযোগ করেও প্রয়োজনীয় ডলার সংস্থান হচ্ছে না। বিদ্যমান বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে বাংলাদেশের কাছে তেল বিক্রি করবে না বলে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি।

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মজুত ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন ডিজেল, ৫৬ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ৩৭ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন অকটেন, ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৫৮ হাজার ৭৭৭ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল। বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত যে মজুত তা দিয়ে ৩৩ দিনের ডিজেল, ১৫ দিনের অকটেন ও ১৪ দিনের পেট্রোল চাহিদা মেটানো যাবে। যদিও জ্বালানি নীতি অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের মজুত থাকার কথা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মজুত রাখা হতো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow