জ্বালানি সংকট না থাকলে লোডশেডিং কেন : জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জ্বালানি সংকট নাই অথচ লোডশেডিং এখন মিনিমাম ৬ ঘণ্টা, ম্যাক্সিমাম ১০ ঘণ্টা। এটা হলো ঘোষিত। আর অঘোষিত কতটা সেটা বলা যাবে না। তো আমাদের যদি তেল মানে জ্বালানিসংকট নাই, যদি আমাদের বিদ্যুতের সংকট নাই তাইলে লোডশেডিং কেন?’

Apr 19, 2026 - 11:08
 0  7
জ্বালানি সংকট না থাকলে লোডশেডিং কেন : জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান

সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জ্বালানি সংকট নাই অথচ লোডশেডিং এখন মিনিমাম ৬ ঘণ্টা, ম্যাক্সিমাম ১০ ঘণ্টা। এটা হলো ঘোষিত। আর অঘোষিত কতটা সেটা বলা যাবে না। তো আমাদের যদি তেল মানে জ্বালানিসংকট নাই, যদি আমাদের বিদ্যুতের সংকট নাই তাইলে লোডশেডিং কেন?’আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনকালে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল–ফালাহ মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।চাঁদাবাজির রেট দিন দিন সব সেক্টরে বাড়ছে বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতিষ্ঠ জনগণ দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। জ্বালানিসংকটে পরিবহন খরচ আর বাড়তি চাঁদার চাপ খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপছে।কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডে দলীয়করণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। অনেক অঘটন ঘটে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এক বিধবা, তাঁকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাঁর জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেস এসেছে, বাকিটা হয়তো লজ্জায় মুখ বুজে আছে। জানি না এ রকম হয়েছে কি না, আল্লাহ ভালো জানেন। সেখানে আবার চাঁদাবাজি হচ্ছে এটাকে কেন্দ্র করে।’অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে আয়নাঘর সৃষ্টি, গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটেনি বলেন জামায়াত নেতা। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা এর প্রথম রাজসাক্ষী। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্বিতীয় রাজসাক্ষী উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূস ক্যাপ্টেনের হাতে যুক্তরাজ্যে গিয়ে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন।জামায়াত আমির প্রশ্ন তুলে বলেন, ট্রফি যদি ওখানেই তুলে দেওয়া হয় তাহলে আর নির্বাচন থাকল কোথায়। ইতিহাস ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ‘পোস্টমর্টেম’ করবেন বলেন তিনি।শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এখন গণভোটকে অবৈধ বললেও এর প্রস্তাব তারাই দিয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোট জায়েজ হলে সর্বশেষ গণভোট নাজায়েজ হবে কেন সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন সাড়ে সাত পার্সেন্ট ওই কালপ্রিটরা টাকা দিলে আবার ব্যাংকের মালিক হয়ে যাবে। কোথায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এখন ব্যাংকের ওপর থাবা শুরু হয়েছে।’বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচারালয়ের আলাদা সচিবালয় করাকে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মানে বিচারকে আর স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না।উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানেও দলীয় প্রভাব। তো দলীয় ভিত্তিতে যখন বিচারক তৈরি হবে তখন বিচারপতি খায়রুল হক তৈরি হবে, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তৈরি হবে, শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম তৈরি হবে। ওইটাই হলো দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের কুফল। ’বিরোধীদলীয় নেতা ভুল থেকে বেরিয়ে এসে গণভোটের গণরায়কে মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসনব্যবস্থাকে মুক্ত করার যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল, সেগুলো বিল আকারে আনতেও আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow