ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে টাকা ছাপাবে না : তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডধারী চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডধারী পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা হিসাব–নিকাশ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এটা বাজেটে কিংবা মূল্যস্ফীতিতে কোনো চাপ ফেলবে না বলে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না।’

Apr 30, 2026 - 12:47
 0  4
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে টাকা ছাপাবে না : তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডধারী চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডধারী পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা হিসাব–নিকাশ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এটা বাজেটে কিংবা মূল্যস্ফীতিতে কোনো চাপ ফেলবে না বলে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না।’জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।এক সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে হলে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর প্রক্রিয়াগত ব্যয়সহ খরচ হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আবার ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‌‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। সেখানে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।এটি দেশের অর্থনীতিকে কতটুকু স্বনির্ভর করবে? এ অর্থ কি বর্তমানে চলা সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে কেটে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে এ খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে? সে ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কি না, জানতে চান এনসিপির মুখ্য সংগঠক।জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে, সেই ফ্যামিলি কার্ডটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনাকেও নারীরা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড চাওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, যে মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড সরকার দেবে, আপনি চেষ্টা করবেন তাঁদের ডিস্ট্রিবিউট করার।’পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারের একবারে এটা করা সম্ভব নয়। সবার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়া বাড়ানো হবে।

‘সে কারণে আমাদের হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।সরকারপ্রধান জানান, বর্তমানে সরকারের যতসংখ্যক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু আছে, তার সব কটির অর্থ সহযোগিতা যোগ করা হলে ফ্যামিলি কার্ডের পরিমাণ হবে না।‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি, অনেক ব্যক্তি আছেন, কয়েকটি সুবিধা একজন ব্যক্তি পাচ্ছেন। সেগুলোকে আমরা কাটডাউন করব, সব কটিকে কাটডাউন করব না। এভাবে করে ধীরে ধীরে নিয়ে যাব,’ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।ফ্যামিলি কার্ডে বিতরণ করা অর্থ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কীভাবে ভূমিকা রাখবে, তা–ও তুলে ধরেন তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে, তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশীয় কারখানায় তৈরি। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়াবে। এটা স্থানীয় শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।তারেক রহমান বলেন, ‘এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।’ফ্যামিলি কার্ড ছিল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এর লক্ষ্য হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন। ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাচ্ছে।এ ছাড়া ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ১০ ধরনের সুবিধা দিতে বিএনপি চালু করেছে কৃষক কার্ড। কৃষকদের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও দুগ্ধখামারিরাও এ কার্ডের সুবিধা পাবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow