মিসরের ঐতিহাসিক বন্দরনগরী আলেকজান্দ্রিয়ার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত অন্তত ২২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক চরম আর্থিক অনটন, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা তিন মাস ধরে বকেয়া বেতন না পাওয়া এবং ১৬০ জনের বেশি শ্রমিকের মূল পাসপোর্ট আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি সাব-কন্ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ন্যায্য পাওনা ও পাসপোর্ট ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার, পুলিশি নির্যাতন এবং মিসরীয় স্থানীয়দের দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের তীর কুমিল্লার বাসিন্দা ও মিসরে অবস্থানরত সাব-কন্ট্রাক্টর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর দিকে। তিনি ‘শাইনলার ইজিপ্ট’ নামক পোশাক কারখানায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কন্ট্রাক্ট লাইনে কাজ করান। ভুক্তভোগী শ্রমিক শুভ ও রাদোয়ন উল্লাহ জানান, আব্দুল্লাহ শুরুতেই ওয়ার্ক পারমিটের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কম খরচে বা ভিজিট ভিসায় কাজের প্রলোভন দেখান। পরবর্তীতে কয়েক মাস নিয়মিত বেতন দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করার পর হঠাৎ বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় রেখে বেতন বন্ধ করে দেন। পাওনা টাকা চাইতে কারখানার অফিসে গেলে কোয়ালিটি ম্যানেজার সালাহ দাবি করেন, কারখানার পক্ষ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টর আব্দুল্লাহকে সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে; সুতরাং তাঁদের কোনো বকেয়া নেই।
বকেয়া বেতন না পাওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারছেন না, অন্যদিকে মিসরে নিজেদের খাবার ও বাসাভাড়ার খরচ চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো প্রতিবাদী শ্রমিককে পুলিশ দিয়ে আটক করানো ও কক্ষে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ফলে আলেকজান্দ্রিয়ায় বসবাসরত এসব প্রবাসী এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিদেশের মাটিতে জীবন, সম্মান ও বকেয়া পাওনা রক্ষায় তারা কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের আশু ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের লিখিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাব-কন্ট্রাক্টর আব্দুল্লাহকে একাধিকবার ডেকে পাঠালেও তিনি দূতাবাসে উপস্থিত হননি। পরিস্থিতি বিবেচনায় মিসরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাকে জিম্মাদারিতে এনে পাসপোর্ট উদ্ধার ও বকেয়া আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় মিসরে সরাসরি ওয়ার্ক পারমিট সীমিত থাকলেও ভিজিট ভিসায় গিয়ে অনিয়মিত হওয়া শ্রমিকদের দূতাবাসের ‘নোট ভারবাল’-এর মাধ্যমে বৈধ হওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।