কোলুন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় যে ৫টি অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং প্রসেসড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রভাবে বর্তমানে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ও কমবয়সিদের মধ্যেও কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। এই মারণব্যাধি থেকে রক্ষা পেতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু জরুরি পরিবর্তনের কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষিত প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠীর দেওয়া মূল পরামর্শগুলো আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কোলরেক্টাল বা কোলন ক্যানসারের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিদিনের অভ্যাসে যে বিষয়গুলো যুক্ত ও বাদ দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে:
-
নিয়মিত কফিতে চুমুক: কফি শুধু ক্লান্তি ও ঘুম তাড়াতে নয়, শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দিতেও কার্যকর। কফিতে থাকা প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান কোষের ক্ষতি রুখে দেয়। গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত পরিমিত কফি খেলে কোলরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে খালি পেটে কফি না খেয়ে সকালের নাস্তার পর থেকে বিকালের মধ্যে কফি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস: ক্যালসিয়াম অন্ত্রের ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদানগুলোকে ধরে রেখে কোলনের ভেতরের প্রাচীরকে সুরক্ষা দেয়। এজন্য প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় টকদই, ইয়োগার্ট, দুধ কিংবা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ নানা প্রাকৃতিক খাবার রাখা উচিত।
-
প্রক্রিয়াজাত খাবার বা প্রসেসড মিট বর্জন: বেকন, সসেজ কিংবা প্যাকেটজাত ফ্রোজেন মাংস নিয়মিত খেলে কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রক্রিয়াজাত মাংসকে 'গ্রুপ ওয়ান কার্সিনোজেন' বা সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে যে কোনো ক্যানসার এড়াতে এ ধরনের খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া জরুরি।
-
ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবারের প্রাধান্য: হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে, নিয়মিত পেট পরিষ্কার রাখতে এবং রক্তে শর্করার সামঞ্জস্য রক্ষায় ফাইবার অত্যন্ত কার্যকরী। খাদ্যে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকলে কোলরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল, রাজমা, ছোলা, দানাশস্য, সবুজ শাকসবজি, টাটকা ফল, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন।
-
উপসর্গের অপেক্ষা না করে নিয়মিত স্ক্রিনিং: প্রাথমিক পর্যায়ে কোলরেক্টাল ক্যানসারের স্পষ্ট কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ না-ও পেতে পারে। তাই ৪৫ বছর বয়সের পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে কোলন স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করানো উচিত। তবে পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস কিংবা অতিরিক্ত ঝুঁকি থাকলে ৪৫ বছরের আগেই স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন।
What's Your Reaction?