গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে তীব্র অস্থিরতা ও কৃত্রিম সংকটের মাঝেই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটি বেসরকারি খাতের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে সরকারিভাবে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও খুচরা বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। উল্টো দেশের অধিকাংশ জেলায় বিইআরসির নির্ধারিত দরের চেয়ে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তথ্যে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২,৪০০ থেকে ২,৫০০ টাকা, ময়মনসিংহে ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং বগুড়া ও রাজশাহীতে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বরিশালে খুচরা বিক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার দোহাই দিচ্ছেন এবং রংপুরে ওমেরা ও আইগ্যাসের মতো ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার নির্ধারিত দরের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ বাসাবাড়ির গ্রাহকদের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁর বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও অতিরিক্ত খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খাতে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৪.৬২ টাকা করায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি চালকরা সড়ক অবরোধ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর অক্টোবরের ‘সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস’ (সৌদি সিপি) অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য প্রতি টনে ৬৪.৭৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে৭১২.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়ামও প্রতি টনে ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে। অপরদিকে সরকারি কোম্পানির ১২.৫ কেজির এলপিজির দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হলেও বাজারে তার সরবরাহ খুবই নগণ্য। সংকট ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ, সাভারের আশুলিয়া, গাইবান্ধা ও বরিশালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একাধিক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।
এদিকে বাজারে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মধ্যে বাকযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, আমদানিকারকরা সরবরাহ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র দেখতে বিইআরসি ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।