পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ বাংলাদেশ
জাপানের নাগোয়ার মিষ্টি রোদ আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্যালারিকাঁপানো ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানের মাঝেও এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে ভক্তদের হতাশ করেছে টাইগাররা। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণজয়ের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভারত অথবা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল।
নাগোয়ার করোগি অ্যাথলেটিক পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। স্পিনসহায়ক ও কঠিন উইকেটে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বদলে আগ্রাসী হতে গিয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটন কুমার দাস দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। পাওয়ার প্লের ৪ ওভারে ৩ উইকেটে মাত্র ২৭ রান তুলতে পেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানও উইকেটে থিতু হতে ব্যর্থ হন।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশ দলকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়ে দলের রান ১০০ পার করান তিনি। হৃদয় ২৫ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪২ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরুতেই স্পিনারদের কার্যকর বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত স্পিনে ৫৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু শেষ দিকে বোলিং আক্রমণের প্রধান চালিকাশক্তি মোস্তাফিজুর রহমানের বাজে বোলিংয়ে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যায়।
অধিনায়ক লিটনের বড় ভরসার পাত্র মোস্তাফিজের দুই ওভার থেকেই ৪১ রান তুলে নেন পাকিস্তানের আবদুস সামাদ ও হাসান নওয়াজ। বিশেষ করে মোস্তাফিজের করা ইনিংসের দশম ওভারে ২৩ রান তুলে ম্যাচ একপেশে করে ফেলেন সামাদ। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। সামাদ ৩০ ও নওয়াজ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
What's Your Reaction?