যে ১০ কারণে এবার বিশ্বকাপ জিততে পারেন রোনালদো

পর্তুগাল বিশ্বকাপের বিমান ধরেছে বেশ দেরিতে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে। অন্য দলগুলো যখন বিশ্বকাপের মাঠে নেমে পড়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল, পর্তুগাল তখনো লিসবনে নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েই হয়তো দেশ ছাড়তে চেয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

Jun 18, 2026 - 13:08
 0  4
যে ১০ কারণে এবার বিশ্বকাপ জিততে পারেন রোনালদো

পর্তুগাল বিশ্বকাপের বিমান ধরেছে বেশ দেরিতে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে। অন্য দলগুলো যখন বিশ্বকাপের মাঠে নেমে পড়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল, পর্তুগাল তখনো লিসবনে নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েই হয়তো দেশ ছাড়তে চেয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।পর্তুগাল বিশ্বকাপের বিমান ধরেছে বেশ দেরিতে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে। অন্য দলগুলো যখন বিশ্বকাপের মাঠে নেমে পড়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল, পর্তুগাল তখনো লিসবনে নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত। সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েই হয়তো দেশ ছাড়তে চেয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।বিশ্বমঞ্চে এবার ‘হেভিওয়েট’ তকমা নিয়েই হাজির হচ্ছে পর্তুগাল। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পাশে পাচ্ছেন এমন একঝাঁক তরুণ ও চটপটে ফুটবলার, যা তাঁর ক্যারিয়ারে আগে কখনো ঘটেনি। ৪১ বছরে এসে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নে বিভোর পর্তুগিজ যুবরাজ।প্রথমবার বিশ্বজয়ের যে স্বপ্ন পর্তুগিজরা দেখছে, সেটা যে অযৌক্তিক নয়, তা বোঝা যাবে এই কারণগুলো পড়লেই।পর্তুগালের রক্ষণের দুই পাশ আগলে রাখার দায়িত্বে থাকছেন নুনো মেন্দেস ও জোয়াও কানসেলো। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ফুলব্যাক জুটি বললে একটুও বাড়িয়ে বলা হবে না। রক্ষণ সামলে বল পায়ে গতি বাড়িয়ে ওপরে ওঠা কিংবা প্রতিপক্ষের উইং ভেঙে ঢুকে পড়ায় তাঁদের জুড়ি মেলা ভার। অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে রবার্তো মার্তিনেজ পরখ করে দেখেছেন দিয়োগো দালোত ও নেলসন সেমেদো জুটিকেও। ব্যাকআপ হিসেবে তাঁরাও পাস মার্ক পেয়ে গেছেন। ফলে পুরো বিশ্বকাপে দুই প্রান্ত থেকে পর্তুগালের মুহুর্মুহু আক্রমণ দেখার অপেক্ষায় থাকতে পারে ফুটবল–বিশ্ব।উইং দিয়ে যখন আক্রমণের ঝড় উঠবে, তার ঠিক সামনেই প্রতিপক্ষের বক্সে কাঁপন ধরাতে প্রস্তুত থাকবেন উইঙ্গাররা। পেদ্রো নেতো, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও—ফুটবল–দুনিয়ার অন্যতম রোমাঞ্চকর উইং আক্রমণভাগ এটি। প্রত্যেকেই ক্লাব ফুটবলে নিজেদের দলের প্রধান তারকা, যাঁরা মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। গোল করা কিংবা গোল করানো—দুই বেলাতেই সমান দক্ষ এই উইঙ্গাররা। মার্তিনেজ যদি ডাগআউট থেকে এই তাসগুলো ঠিকঠাক চালতে পারেন, প্রতিপক্ষের কপালে দুঃখ আছে।দুবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজি যেন বদলে দিয়েছে পর্তুগাল দলের ভেতরের সমীকরণ। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ফরাসি ক্লাবটির জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন পর্তুগালের চার তারকা। মাঝমাঠের দুই ভরসা ভিতিনিয়া আর নেভেস তো আছেনই, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গনসালো রামোস ও নুনো মেন্দেস। বিশ্বকাপ জেতার অঙ্কে যেমন কৌশল লাগে, তেমনই লাগে বোঝাপড়া। ২০১০ সালের স্পেন বা ২০১৪ সালের জার্মানি এর সেরা উদাহরণ; যাদের মূল শক্তির ভিত ছিল বার্সেলোনা আর বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়দের পারস্পরিক রসায়ন। এবার সেই চেনা সুরটাই মার্তিনেজ খুঁজে পাচ্ছেন পিএসজি কানেকশনে।

মাঝমাঠের দুই জাদুকর: ভিতিনিয়া-নেভেসভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস জুটি দুই মৌসুম ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের মাঝমাঠ শাসন করছেন। নেভেস যখন নিখুঁত ছন্দে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো অঙ্কুরেই বিনষ্ট করেন, তখন ভিতিনিয়ার দূরদর্শী পাসিং দলকে এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লিড। আবার দুজনই ড্রিবলিংয়ের দক্ষতায় প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ঘোল খাওয়াতে ওস্তাদ। পার্ক দে প্রিন্সেসের সেই চেনা সুর যদি বিশ্বকাপের মঞ্চেও বেজে ওঠে, তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্তুগালের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

গোলবারের নিচে এক বিশ্বস্ত দেয়ালকাগজে-কলমে পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হলেও এই দলের আসল ত্রাতা কিন্তু গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। পোর্তোর হয়ে খেলা ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ক্লাব ফুটবলে হয়তো খুব বড় আলো কাড়েননি, কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ২০২৪ ইউরোতে টাইব্রেকারে তিনটি শট রুখে দেওয়া কিংবা ২০২৫ নেশনস লিগের ফাইনালে আলভারো মোরাতার পেনাল্টি থামিয়ে দেওয়া—কস্তার ঠান্ডা মাথার কীর্তি ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকার কথা। এই বিশ্বকাপেও পর্তুগিজদের আশা-ভরসা বেঁচে থাকবে তাঁর বিশ্বস্ত গ্লাভসেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow