পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মোদির গত ১২ বছরের শাসনামলে জেন-জি (Gen Z) তরুণদের প্রতিবাদের কাছে সরকারের এভাবে পিছু হটার ঘটনা বিরল।
মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের (Paper leak) প্রতিবাদে আন্দোলনটি শুরু হয়। গত মে মাসে এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের 'ককরোচ' (তেলাপোকা) বলে মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে আন্দোলনকারীরা গঠন করে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা পুরো দেশকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে লাখো শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে জমায়েত হয়।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস এবং পেলেট গান ব্যবহার করে। নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে ক্ষোভ দাবানলের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি দমনপীড়ন উল্টো আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের প্রবল আন্দোলনের মুখে মোদি সরকারের মন্ত্রীরা সিজেপি (CJP) প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হন। শনিবার চূড়ান্ত সমঝোতায় সরকার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেয়:
-
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
-
পরীক্ষা বাতিলে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) রুপি ক্ষতিপূরণ।
-
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার।
এই আন্দোলনকে ভারতের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এক ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এই তরুণদের প্রতিবাদ ভবিষ্যতে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করছেন আন্দোলনকারীরা।
What's Your Reaction?