সুন্দরবনে অবৈধ ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ এবং সোনাদিয়ায় প্যারাবনের চিংড়ি ঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনী
সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ১৮টি ইকো-রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিকে ৩০ দিন এবং বাকি ৮টিকে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের নির্মিত সব স্থাপনা অপসারণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও নিয়মিত মামলাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকার এসব রিসোর্ট কোনো বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তাদের আবেদন বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সোনাদিয়ার অবৈধ চিংড়ি ঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনী
অপরদিকে, কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ বন (প্যারাবন) কেটে তৈরি করা অবৈধ ৫০টি চিংড়ি ঘের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেজাকে জমি বরাদ্দের পর সোনাদিয়ায় প্রায় ৬ হাজার একর প্যারাবন উজাড় করে অবৈধভাবে এসব ঘের গড়ে তোলা হয়।
নৌবাহিনীকে উচ্ছেদ অভিযানে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্তকে পরিবেশবিদরা ইতিবাচক মনে করলেও, শুধু উচ্ছেদই যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করেছেন। নদীগবেষক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া ও বাপা সম্পাদক মো. আলমগীর কবির জানান, কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং কাটা পড়া প্যারাবনের পুনরুদ্ধার, নদীর জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় দখল ঠেকাতে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত সমন্বিত তদারকি জরুরি।
What's Your Reaction?