দুই বছরে সাড়ে ১৬ লাখ শিক্ষার্থী উধাও
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর শেষ করলেও মাধ্যমিক শিক্ষায় না গিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের প্রাইমারি পরবর্তী স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে প্রায় ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৪৮ জন। শুধু মাধ্যমিক স্কুলেই এই দুই বছরে শিক্ষার্থী কমেছে ৭ লাখ ৬৭ হাজার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকে উত্তরণের হার যেখানে ছিল ৯৬.৫৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮১.২৯ শতাংশে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির (CPD) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হলো চরম অর্থনৈতিক দারিদ্র্য, পারিবারিক আর্থিক সংকট ও সুযোগ ব্যয়। পরিবারের আয় বাড়াতে ছেলেদের ক্ষেত্রে শিশুশ্রমের হার বেড়েছে, যার ফলে শিশুশ্রমজনিত ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৯.২ শতাংশে। অন্যদিকে, বাল্যবিবাহের নির্মম শিকারে পরিণত হয়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৩৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়াও, প্রাথমিক স্তরে দুর্বল শিখনফল এবং খাতা-কলম ও পোশাকসহ আনুষঙ্গিক খরচের চাপ দরিদ্র পরিবারগুলোকে মাধ্যমিক শিক্ষায় সন্তান পাঠাতে নিরুৎসাহিত করছে।
বিদ্যমান সংকট নিরসনে সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিকে মিড-ডে মিল ও স্কুল ইউনিফর্ম চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচি আগামী বছর সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প বা উদ্যোগ দিয়ে এই সংকট থামানো সম্ভব নয়; শিক্ষকসংকট দূর করা, মানসম্মত শিখন নিশ্চিতকরণ এবং একটি সার্বিক শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন করাই এখন সময়ের দাবি।
What's Your Reaction?