পণ্যের কেনাকাটা ছাড়া শুধু ক্যাশআউটে বাংলা কিউআর ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট ব্লক
পণ্য বা সেবা কেনাকাটা না করে কেবল ক্যাশআউট সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশে ক্যাশলেস অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সংরক্ষণ করতেই বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। এই সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) গড়িমসি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ করা তথ্যানুযায়ী, দেশের ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা বর্তমানে মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে বিল পরিশোধ করছেন। গত জুনে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ পেমেন্টে ২৮ কোটি টাকার লেনদেন হতো, বর্তমানে তা লাফিয়ে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার পেমেন্টে পৌঁছেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআরে লেনদেনের সংখ্যা সাড় তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনের এই ইতিবাচক গতি আরও ত্বরান্বিত করতে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক প্রতিটি লেনদেনের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পাশাপাশি মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) ১ শতাংশ রহিত করা হয়েছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে বিক্রেতা বা মার্চেন্ট পর্যায়ে লেনদেনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ ফান্ড থেকে এনপিএসবি (NPSB) প্ল্যাটফর্মের পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ প্রদান করবে। এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি-টু-ব্যক্তি (P2P) বাংলা কিউআর লেনদেন চালু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা একে অপরের কিউআর স্ক্যান বা ছবি আপলোড করে আন্তঃব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিকাশ অ্যাপে ১০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট না হওয়া ও এজেন্টদের অসহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, প্রতিষ্ঠানটিকে এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
What's Your Reaction?