ফাইন্যালের আগে যেন আরেক ফাইনাল
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এবারই প্রথম শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল। ৪৮ দলের বর্ধিত টুর্নামেন্ট হলেও কোনো বড় অঘটন ছাড়াই বিশ্বসেরা দলগুলোই সেমিফাইনালে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল ফ্রান্স এবং তিন নম্বরে থাকা স্পেন। চলতি বিশ্বকাপে দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স দলকে থামানো একপ্রকার অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। টুর্নামেন্টের ছয়টি ম্যাচ খেলে কোনোটিতেই এক সেকেন্ডের জন্যও পিছিয়ে পড়েনি তারা। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ৭ ম্যাচ এবং এই ক্যালেন্ডার বর্ষে ১০ ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে ফরাসিরা। ফ্রান্সের প্রধান শক্তি তাদের দ্রুতগতির ও ধারালো আক্রমণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত গতির সাথে মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ের ক্রিয়েটিভ পাসের সমন্বয় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানোর ম্যাচেও এমবাপ্পে ও দেম্বেলে উভয়েই গোল পান। আসরের যৌথ সর্বোচ্চ ৮ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হুমকি এখন এমবাপ্পেই।
তবে এই বিস্ফোরক ফরাসি আক্রমণকে থামানোর কৌশল জানা আছে একমাত্র স্পেনেরই। শারীরিক শক্তিতে ফ্রান্সের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও উচ্চ বল পজেশন ও পাসিং নির্ভর ফুটবল খেলে ফরাসিদের বল থেকেই বঞ্চিত রাখতে চায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। টানা ১৬ ম্যাচে অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে এসেছে স্প্যানিশরা। স্পেনের নকআউট পর্বের সফরটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—দুই দলের বিপক্ষেই শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা জয় ছিনিয়ে এনেছে। বিশেষ করে বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো শেষ মুহূর্তে গোল করে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয় উপহার দেন।
ফ্রান্সের প্রতি আক্রমণ সামলাতে স্পেনের ভরসা রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের মিডফিল্ড জুটি, যারা গত ৬ ম্যাচে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে। ওপরের দিকে বল সরবরাহে ভূমিকা রাখবেন তরুণ জাদুকর লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও পেদ্রি। আর ফিনিশিংয়ে থাকবেন চলতি আসরে ৪ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল। গত বছরের জুনে নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল স্পেন, যেখানে ইয়ামাল দুটি চমৎকার গোল করেছিলেন। তাই তারকাবহুল ফ্রান্স দলকে নিয়ে স্প্যানিশদের কোনো ভয় নেই; দলীয় রসায়নেই ফ্রান্সকে রুখে দিয়ে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তারা।
What's Your Reaction?












