ফিফানমিক্স: ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সুবিধা ও অর্থনৈতিক অবদান
বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বজুড়ে যে বিপুল উন্মাদনা তৈরি করে, তা কেবল মাঠের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক মহাযজ্ঞ। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল দল এখনো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি, তবুও বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের উপস্থিতি বেশ স্পষ্ট। 'মেড ইন বাংলাদেশ' ট্যাগের স্পোর্টসওয়্যার ও পোশাক বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বিপুল অর্থের লেনদেন ঘটে। এই অর্থনৈতিক চক্রই মূলত 'ফিফানমিক্স' (FIFAnomics) নামে পরিচিত।
১. 'মেড ইন বাংলাদেশ' ট্যাগের বিশ্বজয়
বিশ্বকাপের পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের অবদান দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে:
-
খেলোয়াড় ও ফ্যানদের জার্সি: নাইকি (Nike), অ্যাডিসাস (Adidas), পুমা (Puma) ও ক্যাপেলি স্পোর্টসের (Capelli Sport) মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বিশ্বাকাপ স্পোর্টসওয়্যার এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের অফিসিয়াল জ্যাকেট, শার্ট ও জার্সি তৈরি হয় ঢাকার উত্তরা ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোতে।
-
রপ্তানি বাণিজ্য: বিশ্বকাপ চক্রগুলোতে স্পোর্টস আইটেম ও পোশাক রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আন্তর্জাতিক বাজারে টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক রপ্তানির পরিমাণ কোটি কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।
২. দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও ভোক্তা অর্থনীতি
বিশ্বকাপ চলাকালীন বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসাতেও এক বিশাল জোয়ার আসে:
-
জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বাজার: পল্টন, গুলিস্তান ও বসুন্ধরা সিটির পাইকারি ও খুচরা পোশাকের বাজারে শত কোটি টাকার ব্যবসা হয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানির জার্সির প্রচুর চাহিদা থাকে।
-
ইলেকট্রনিক্স খাত: ম্যাচ উপভোগ করতে দেশে হঠাৎ করেই বড় স্ক্রিনের টিভি, স্মার্ট টিভি ও প্রজেক্টরের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।
-
খাদ্য ও ক্যাফে ইন্ডাস্ট্রি: গভীর রাতের খেলা দেখার সংস্কৃতির কারণে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং স্ন্যাক্স ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা
যদিও বিশ্বকাপ ফুটবল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বাণিজ্য এনে দেয়, তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার হারের ওঠানামার কারণে কারখানাসমূহকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। তবুও, বিশ্বমানের হাই-টেক স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে চলেছে।
What's Your Reaction?












