বজ্রপাত রোধে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ কর্মসূচি
বজ্রপাতের মারাত্মক ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লায় পাঁচ হাজার তালবীজ রোপণের একটি বৃহৎ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’-এর উদ্যোগে লালমাই উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বজ্রপাতবিষয়ক একটি সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর হাতে উপহার হিসেবে তালবীজ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ির আশপাশে ও এলাকার ফাঁকা স্থানে এসব বীজ রোপণ করবে।
পরবর্তীতে সংগঠনের সদস্যরা উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে তালবীজ রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রোপণ অভিযানে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সরাসরি অংশ নেন।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, "শিক্ষার্থীদের যদি এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশ সুরক্ষামূলক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা যায়, তবে খুব অল্প সময়ে সারা দেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা সম্ভব। তালগাছ প্রাকৃতিক বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাই এ উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।"
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী দিনের শুরুতেই ১ হাজার তালবীজ বিতরণ ও রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে পর্যায়ক্রমে বাকি ৪ হাজার তালবীজ রোপণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস ও পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে তালবীজ রোপণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিগত ১৫ বছরে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের উদ্যোগে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। নিয়মিত তালগাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সঠিক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে বজ্রপাতে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।
What's Your Reaction?