অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে মন্দা
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতির নানা খাতের মতো স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পেও স্পষ্ট মন্দা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে দেশে সার্বিক মোবাইল ফোন উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮.০২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের সংখ্যা নেমে এসেছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৮৩টিতে, যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ৯০ হাজার ১০টি। উৎপাদন হ্রাসের এই প্রবণতার পাশাপাশি বাজারে এখনও সাধারণ বা ফিচার ফোনের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। মোট উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের ৬৫.৯৮ শতাংশ বা ১ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৪টিই ছিল ২জি ফিচার ফোন। অন্যদিকে, ৪জি স্মার্টফোন উৎপাদিত হয়েছে ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৭টি (৩৩.১০ শতাংশ) এবং ৫জি স্মার্টফোন তৈরি হয়েছে মাত্র ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৩২টি (০.৯২ শতাংশ)।
দেশীয় এই শিল্প খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বিটিআরসি জানায়, ১৭টি নিবন্ধিত কারখানার মাধ্যমে বর্তমানে এসকেডি ও সিকেডি পদ্ধতিতে ফোন সংযোজন হচ্ছে। বাজারে দেশি ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে মোট ২২টি ব্র্যান্ড সক্রিয় রয়েছে। এ খাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং ১৪ হাজার দক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। উৎপাদনে ফিচার ফোনের আধিক্য থাকলেও, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সক্রিয় ১৭ কোটি ৫১ লাখ হ্যান্ডসেটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গ্রাহক পর্যায়ে ৪জি ব্যবহারকারী রয়েছে ৫৩.৯৮ শতাংশ (৯ কোটি ৪৫ লাখের বেশি)।
খাতের এই স্থবিরতার কারণ হিসেবে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)-এর সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ জানান, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে উৎপাদন ও বাজারমূল্য বেড়েছে। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় স্মার্টফোনের চাহিদা ও বিক্রি কমে গেছে। পাশাপাশি, গ্রে মার্কেট বা অবৈধভাবে হ্যান্ডসেট প্রবেশের কারণে দেশীয় উৎপাদক ও বিনিয়োগকারীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে এনইআইআর বাস্তবায়নের পাশাপাশি শুল্ক ছাড় ও নীতিগত সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?