মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সেনা উপস্থিতি ও সামরিক ঘাঁটি কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি ও ঘাঁটিগুলোর আকার উল্লেখযোগ্য হারে সংকুচিত করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত গোপনে সেনা উপস্থিতি পুনর্গঠনের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে তা হবে ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেনের পর মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা কৌশলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ড্রোন ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনের বেশি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন রয়েছে। তবে হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং সৌদি আরবের রিয়াদ, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পেন্টাগন এখন বহুল ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করার পরিবর্তে সামরিক কার্যক্রম কাটছাঁটের কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।
সামরিক কৌশলবিদরা এখন স্পর্শকাতর অপারেশন পরিচালনায় স্থায়ী ঘাঁটির ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছেন। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে বাকি ঘাঁটিগুলোকে মাটির নিচে বা ভূগর্ভস্থ রাখার পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব ও নির্মাণ ব্যয় স্থানীয় উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করতে চাইছে পেন্টাগন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে কাবু করার নীতিতে মনোযোগ দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল উপস্থিতি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গুটিয়ে নেওয়ার পুরোনো কৌশলেই হাঁটতে চলেছে।
What's Your Reaction?