ইংল্যান্ড সফরে চরম বিশৃঙ্খলা ও ব্যর্থতা: পিসিবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু
ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা আচরণগত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। সংবাদমাধ্যমে খেলোয়ারদের শৃঙ্খলভঙ্গ ও সন্দেহজনক আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক জরুরি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির উপদেষ্টা আমির মীর সামাজাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পিসিবির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই না করে শত্রুভাবাপন্ন কোনো সূত্রের গুজবে কান না দিতে ভক্তদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’ ও ‘৩৬৫ নিউজ’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, লন্ডনে অবস্থানকালে দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুজন ক্রিকেটারের মুঠোফোন কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের হেফাজতে নেন এবং পরবর্তীতে তা পিসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এজবাস্টন টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোনগুলো বোর্ডের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে বলে জানা গেছে। মূলত খেলোয়াড়রা লন্ডনে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে কোনো অসঙ্গতি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তদন্তকারীরা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যদিও ফোন জব্দের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও নিশ্চিত করেনি পিসিবি।
মাঠেও বর্তমানে সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে বাবর আজমদের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের ধাক্কায় সফরের মাঝপথেই এক অভূতপূর্ব রেশাফলিং চালিয়ে সাতজন খেলোয়াড়কে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে এবং বদলি হিসেবে পাঁচজন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে নেওয়া হয়েছে। শুধু খেলোয়াড়ই নয়, টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ, পেস বোলিং কোচ উমর গুল ও নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদ হারিয়েছেন; যার ফলে সীমিত ওভারের কোচ মাইক হেসনের হাতেই পুরো দলের দায়িত্ব সঁপে দিতে বাধ্য হয়েছে পিসিবি। দলের কাঠামোগত এই নজিরবিহীন পরিবর্তন এবং স্পর্শকাতর তদন্তের ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
What's Your Reaction?