আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনারে পাকিস্তানের বিমান হামলা
আফগানিস্তানের হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুটি পৃথক স্থানে পরিচালিত এই সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে তালেবান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, বুধবার গভীর রাতে হেলমান্দ ও কুনার প্রদেশে এই হামলাগুলো চালানো হয়। এতে তিনটি আবাসিক বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
গত তিন মাসে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ না থাকলেও সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। পাকিস্তানে একটি মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক রক্তাক্ত সশস্ত্র হামলার পর তালেবান সরকারকে সরাসরি দায়ী করতে শুরু করে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রধান অভিযোগ, আফগান তালেবানের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। যদিও তালেবান প্রশাসন শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মসজিদে হামলার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা আরও তীব্র হয়, যার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান আফগান সীমানার ভেতরে সরাসরি এই বিমান হামলা চালায়। তবে হামলায় হতাহতের সংখ্যা ও ধরন নিয়ে উভয় পক্ষের দেওয়া পরস্পরবিরোধী দাবির সত্যতা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
What's Your Reaction?