টোয়েন্টিতেও হারের বৃত্তে বাংলাদেশ

Jul 16, 2026 - 11:03
Jul 16, 2026 - 11:19
 0  5
টোয়েন্টিতেও হারের বৃত্তে বাংলাদেশ

এখানে প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি আমার নিজের (ইউনিক এবং আকর্ষণীয়) স্টাইলে রিরাইট (পুনর্লিখন) করে দেওয়া হলো:

বুলাওয়েতে বাউন্সের ধাক্কা: টি-টোয়েন্টিতেও হারের বৃত্তে বাংলাদেশ, রাঙাতে পারলেন না রাব্বি!

টেস্ট আর ওয়ানডের হতাশা কাটানোর লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে। কিন্তু বুলাওয়ের উইকেটে জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স আর গতির সামনে আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ বল বাকি থাকতেই ১৩৮ রানে অলআউট তাওহিদ হৃদয়ের দল। ৩২ রানের এই হারে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, তাওহিদ-রাব্বির লড়াই

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩৪ রান উঠতেই সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। টপ অর্ডারের এই ধসের পর দলের হাল ধরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এবং প্রায় তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফেরা ইয়াসির আলী রাব্বি। চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে ৩৯ রান যোগ করে তারা যখন ম্যাচে ফেরার আশা জাগাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই মিল্টন সুম্বার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয় (১৩ বলে ১৪ রান)।

রাব্বির একাকী ফিফটি এবং শেষ মুহূর্তের ধস

৭৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর উইকেট বিলিয়ে আসেন নুরুল হাসান সোহানও (৫)। এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন ইয়াসির রাব্বি। শেখ মেহেদীকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৩৭ বলে ৫২ রান যোগ করেন তিনি। শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে ৫ উইকেট—ম্যাচটি তখনো নাগালের বাইরে ছিল না।

কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি জিম্বাবুয়ের দিকে হেলে পড়ে। রিচার্ড এনগারাভার বাউন্সার কাভারের ওপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বসেন রাব্বি। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে খেলেন ৫৪ রানের এক লড়াকু ইনিংস। রাব্বির বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লোয়ার অর্ডার। মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে শেষ ৫টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৩৮ রানে।

নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং কিন্তু...

এর আগে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন জিম্বাবুয়ের ওপেনাররা। প্রথম ৩ ওভারেই তারা বোর্ডে তোলেন ৩৬ রান। তবে চতুর্থ ওভারে এসেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন গতি তারকা নাহিদ রানা। নিজের প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিলেন তিনি।

যদিও ইনিংসের শেষ ওভারে এসে একটু খেই হারিয়ে ১৮ রান খরচ করে বসেন রানা, তবে তার আগেই শিকার করেন ৪টি উইকেট (৪ ওভারে ২৬ রান)। পেসার আল-আমিন হোসেনের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৫ রানে নেন ২টি উইকেট।

জিম্বাবুয়ের কোনো ব্যাটসম্যান ফিফটি না পেলেও ব্রায়ান বেনেটের ৪৪ (৩০ বল), তাদিওয়ানাসে মারুমানির ১৪ এবং শেষ দিকে রায়ান বার্লের অপরাজিত ৩০ (২৫ বল) ও ব্র্যাড ইভান্সের ১৯* (১০ বল) রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ জুলাই। সিরিজে টিকে থাকতে হলে সেই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow