বাংলা কিউআর পেমেন্টে মার্চেন্ট ফি কমানো ও ভর্তুকির উদ্যোগ
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে এবং প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় বাংলা কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ফি কমানো কিংবা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে দেশে বাংলা কিউআরে ১ শতাংশ হারে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (এমডিআর) দিতে হয়, যা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ বেশি। ভারতে ইউপিআই এবং নেপালে নেপালকিউআরের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ফি যেখানে সম্পূর্ণ শূন্য, সেখানে ইন্দোনেশিয়ায় তা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং চীনে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে ফি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট চার্জে সহায়তা দিতে ১০০ কোটি টাকার একটি ভর্তুকি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মার্চেন্ট ফি একেবারে বাতিল না করে কমানোর অন্যান্য উপায় যাচাইয়ের কথা জানিয়েছেন, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই ফি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহারও করা হতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা ও ভর্তুকির শর্তাবলীসহ দ্রুতই একটি সার্কুলার জারি করা হতে পারে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে এই ভর্তুকি তহবিলের আকার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলা কিউআরের প্রসার ঘটলে দেশে নগদ অর্থের বদলে ডিজিটাল লেনদেনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া সহজ হবে এবং নতুন করদাতাদের করজালের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মার্চেন্ট ফি বাবদ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তুকি দিতে হলেও দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
What's Your Reaction?