একনেকে উঠছে মেট্রোরেল লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্প: ২৮ মিনিটে যাওয়া যাবে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

Sep 14, 2026 - 12:18
 0  4
একনেকে উঠছে মেট্রোরেল লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্প: ২৮ মিনিটে যাওয়া যাবে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট। আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করছে পরিকল্পনা কমিশন। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রাক্কলিত ব্যয় কমিয়ে পুনর্গঠন করার ফলে এতদিন থমকে থাকা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই মেগা প্রকল্পটি আবার গতি পেল।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দিতে যেতে সময় লাগবে মাত্র ২৮ মিনিট। প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করবেন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মধ্যে ১৩.১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ এবং ৪.১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। পুরো রুটে ১৫টি স্টেশন থাকবে—যার মধ্যে ১১টি পাতাল ও ৪টি উড়াল স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো—গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও দাশেরকান্দি।

অর্থনৈতিক পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। আগে যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা, সেখান থেকে ৭,৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে নতুন প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭,৬৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৩২,৩৩১ কোটি টাকা এবং বাকী ১৫,৩১৪ কোটি টাকা জোগান দেবে সরকার। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে রুটটি জনসাধারণের জন্য চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও সার্বিক প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত।

প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে ১,০৪৯টি। সেই সাথে বাতাসে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে এটি জলবায়ু সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান প্রকল্পটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী আখ্যা দিলেও পাতালপথ নির্মাণের জটিলতা ও স্টেশনগুলোর আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে তদারকির পরামর্শ দিয়েছেন। এই রুটটি চালু হলে ঢাকার পাতাল ও উড়াল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow