গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ সংকট কাটেনি
গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও কাটেনি বিদ্যুৎ সংকট: রামপাল বন্ধ, আদানির আংশিক উৎপাদনে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো প্রধান প্রধান থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি ও উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
ভারতের আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বন্ধ থাকা একটি ইউনিট গত রোববার থেকে নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলেও ঠিক একই দিনে কারিগরি ত্রুটিতে বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।
মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি
-
আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট (১,৬০০ মেগাওয়াট): সম্প্রতি ঝড়ে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বয়লারে ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ ছিল। রোববার ভোরে মেরামতের পর দুপুরে সেটি চালু হওয়ায় দুটি ইউনিট মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১,০০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে।
-
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র (১,৩২০ মেগাওয়াট): হঠাৎ কারিগরি গোলযোগের কারণে রোববার সকাল ১১টায় কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ১,১০০ মেগাওয়াটের অধিক উৎপাদনে থাকা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। ইউনিটটি পুনরায় চালু হতে অন্তত চার দিন সময় লাগবে।
-
পায়রা ও আরএনপিএল কেন্দ্র: পটুয়াখালীর ১,২৪৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরএনপিএল কেন্দ্রে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৯৩০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে একই সক্ষমতার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দীর্ঘ দুই মাস ধরে কারিগরি সীমাবদ্ধতায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৮০ মেগাওয়াট।
-
সিলেট ও হবিগঞ্জ আঞ্চল: ১৫টি কেন্দ্রের মোট ২,৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে গ্যাসের চাপ কম থাকা ও যান্ত্রিক সক্ষমতা কমায় শাহজীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ ও কুমারগাঁও কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।
বিদ্যুতের চাহিদা, সরবরাহ ও তীব্র ঘাটতি
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
| সময়কাল | বিদ্যুতের চাহিদা (মেগাওয়াট) | জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ (মেগাওয়াট) | মোট লোডশেডিং/ঘাটতি (মেগাওয়াট) |
| রবিবার মধ্যরাত | - | - | ৩,১৪৮ |
| রবিবার রাত ৮:০০ | - | - | ২,৮১৩ |
| রবিবার বিকাল ৩:০০ | ১৫,৯৪২ | ১৩,৮০৩ | ২,১৩৯ |
| রবিবার সন্ধ্যা ৭:০০ | ১৭,১৮৬ | ১৫,৪২৯ | ১,৭৫৭ |
এদিকে দেশে এলএনজি সরবরাহ সাড়ে ৫ কোটি ঘনফুট বৃদ্ধি পেয়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ২৩৬ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা প্রতিফলিত হয়নি।
শিল্পকারখানা ও জনজীবনে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব
ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিসিক শিল্পনগরীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত।
-
সিলেটের গোটাটিকর বিসিক: প্রায় ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দিনে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। টানা ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার সার্বিক উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
-
ঝালকাঠি বিসিক ও শিল্পাঞ্চল: ১২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ওজোপাডিকো মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্লাস্টিক পাইপ কারখানা ও ময়দা মিলগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে কাঁচামাল আটকে নষ্ট হচ্ছে। ময়দা মিলগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৫০% হ্রাস পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা।
What's Your Reaction?