হার দিয়ে শুরু হলেও নতুনদের ওপর কোচ ডুলির বাজি

Sep 30, 2026 - 11:57
 0  3
হার দিয়ে শুরু হলেও নতুনদের ওপর কোচ ডুলির বাজি

একচিলতে রোদ্দুর দেখেই যেমন বসন্তের আগমন ঘোষণা করা যায় না, ঠিক তেমনি পর পর দুই ম্যাচের পরাজয় দিয়ে বাংলাদেশে নতুন অভিষেক হওয়া চার ফুটবলারের দীর্ঘ ভবিষ্যৎ লিখে দেওয়া যায় না। জাকার্তার ঐতিহাসিক গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপে ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতোফুসা, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীন যখন প্রথম লাল-সবুজ জার্সিতে নামলেন, তখন পুরো দেশ বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের রুক্ষ ও নির্মম বাস্তবতার মুখে পড়ে বাংলাদেশ—মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলের তেতো হার হজম করতে হয় দলকে।

সব অন্ধকার ও ব্যর্থতার মাঝেও চার নবাগত কেবল কোচের এক-একটি ক্ষণস্থায়ী তাসের ঘর নাকি তারা নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পেরেছেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। ইংল্যান্ড প্রবাসী জিদান ইউসুফ ইতোমধ্যেই রক্ষণভাগে ভরসার বড় জায়গা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে ফারহান ও শুকির মতো প্রবাসীদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি ও শারীরিক লড়াইয়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১ অক্টোবরের ইন্দোনেশিয়া ম্যাচেই হয়তো চূড়ান্ত রূপ নেবে কোচ থমাস ডুলির এই মহাপরীক্ষার পরিণতি।

ইতিমধ্যে জাকার্তার হোটেল লবি থেকে ঢাকার সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই ব্রিটিশ প্রবাসী ফারহান আলী ওয়াহিদকে ঘিরে গুঞ্জনের ঝড় বইছে। প্রথম ম্যাচে ৪৫ মিনিট খেলার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়। গুঞ্জন ওঠে, কোচের সঙ্গে নাকি তাঁর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে এবং ম্যাচ শেষে ফারহানের বাবার সঙ্গে থমাস ডুলির বাকবিতণ্ডা ঘটেছে। তবে কোনো পক্ষই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি, এমনকি দলের ম্যানেজারও বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টো ইতিবাচক খবর হলো, ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের আগে জাকার্তায় ফারহান ও শুকিকে নিয়ে বিশেষ সেট পিস অনুশীলন করিয়েছেন কোচ ডুলি, যা তাঁদের মূল একাদশে ফেরার ইঙ্গিত দেয়।

হামজা-জামালদের এই স্কোয়াডে নবাগতদের মধ্যে সবচেয়ে পরিণত ফুটবল খেলেছেন সেন্টার-ব্যাক জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার মাত্র ৩১ মিনিটে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল ও ২টি ইন্টারসেপশন করে নজর কাড়েন। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ৩৮ বার বল স্পর্শ করে দলের রক্ষণের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে যান তিনি এবং প্রতিপক্ষের একাধিক কাউন্টার অ্যাটাক নস্যাৎ করে দেন। দেশীয় তরুণদের মধ্যে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সম্ভাবনা দেখিয়েছেন উইঙ্গার মিনহাজুল করিম স্বাধীন। সিঙ্গাপুর ম্যাচে ৩৩ মিনিটে ১৫ বার বল স্পর্শ করার পাশাপাশি উইং দিয়ে দুটি বিপজ্জনক ক্রস বক্সে পাঠান তিনি।

তবে আক্রমণ ভাগের দুই নবাগত প্রবাসীর মধ্যে শুকি যতটা আস্থা অর্জন করেছেন ডুলির, ফারহান সেটা পারেননি। টুর্নামেন্টের শুরুতে যাঁকে প্রধান ফিনিশার ধরা হয়েছিল, সেই ফারহান আলী ওয়াহিদ প্রথম ম্যাচে মিডফিল্ড থেকে বলের জোগান না পাওয়ায় প্রথমার্ধে মাত্র ১১ বার বল স্পর্শ করেন এবং কোনো শট নিতে পারেননি। অন্যদিকে লেফট-উইংয়ে খেলা শুকি ইতোফুসা প্রথম ম্যাচে ১৮ বার বল স্পর্শ করলেও সিঙ্গাপুর ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি বেশ ইতিবাচক ছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow