আইএমএফের পূর্বাভাস: প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়াবে ৩.২ শতাংশে, মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে ১০.৯ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে এবং একই সময়ে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও উঁচুতে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সদ্য প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (World Economic Outlook) ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামতে পারে, যা গত ৩৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। এর পাশাপাশি গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্রয়ক্ষমতা ও নতুন বিনিয়োগের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের শঙ্কার তৈরি করেছে।
ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রকাশ করা এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে আনুমানিক ৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার এ হালনাগাদ পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির গতি আরও মন্থর হবে এবং মূল্যস্ফীতি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ২০২৬ সালে ৩.১ শতাংশ ও ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবৃদ্ধি কমার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এই জোড়া আঘাত (Stagflationary pressures) নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তুলবে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা, অবকাঠামোগত জ্বালানি সংকট ও বেসরকারি বিনিয়োগ মন্দাকে দায়ী করে যথাক্রমে ৩.৪% ও ৪% প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। প্রবৃদ্ধির ধারা সংকুচিত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
What's Your Reaction?