স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগেও কাটেনি দুর্বল ব্যাংকের সংকট
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা। ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ছিল এই উদ্যোগের আওতাভুক্ত উল্লেখযোগ্য ব্যাংক। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর এসব ব্যাংকের আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রত্যাশিত উন্নতি খুব একটা হয়নি। বরং লোকসান, খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদ বিলুপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে আইএফআইসি ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত সম্মানী নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকে লোকসানের পরিমাণ বেড়ে মূলধন নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। আর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির চাপ সামলে উঠতে পারেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, শুধু পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করেই কি দুর্বল ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংকট দূর করা সম্ভব?
ন্যাশনাল ব্যাংকে লোকসান ও মূলধন সংকট
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান মো. জুলকার নাঈন, মো. মুখলেসুর রহমান, এফসিএমএ, মো. আব্দুস সাত্তার সরকার ও মো. আখতার হোসেন। তবে তাদের নিয়োগের পরও ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের লোকসান দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ২৫ হাজার ৫২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। আমানত কমে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৫৩৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বছর শেষে এই ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৬০৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির সিআরএআর নেমে যায় ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা ব্যাংকটির মূলধন সক্ষমতার গুরুতর দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আমানতকারীদের সুদ বাবদ ব্যাংকটি ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বিনিয়োগ থেকে আয় করেছে মাত্র ৪৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৫৯১ কোটি টাকা। ফলে সুদ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান থেকে লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৪২ কোটি টাকা এবং পরিচালন কার্যক্রমে লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৯৯২ কোটি টাকা।
আইএফআইসিতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন
২০২৩ সাল পর্যন্ত লাভজনক অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন পরিস্থিতিও ২০২৪ সালের পর বদলে যায়। ব্যাংকটির বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার চিত্র সামনে আসার পর সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী মো. মাহবুব কাশেম ও মো. মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত সম্মানী নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বিতর্কিত ঋণ তদন্তে গঠিত কমিটির আটটি বৈঠকে অংশগ্রহণ, নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এবং ব্যাংকের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে লেকচার দেওয়ার বিপরীতে তারা অতিরিক্ত সম্মানী নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব সম্মানী গ্রহণ বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-২-এর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ব্যাংকটির আর্থিক সূচকও সংকটের গভীরতা তুলে ধরে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছর শেষে আইএফআইসি ব্যাংকের কর-পরবর্তী লোকসান দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটির সিআরএআর নেমে যায় ঋণাত্মক ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটিও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। জুন শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ঋণাত্মক হয়েছে। অর্থাৎ পর্ষদ পুনর্গঠনের পরও ব্যাংকটির মূলধন ও সম্পদের ওপর চাপ কমেনি; বরং সংকট আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদও স্থায়ী হয়নি
২০২৪ সালের আগস্টে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করে ব্যাংকটিতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মো. খুরশিদ আলম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
তবে এই পুনর্গঠিত পর্ষদও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৬ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত করে এবং ব্যাংকটির পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয়। ফলে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি প্রত্যাশিত স্থায়িত্ব পায়নি।
২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে ১৩৬ কোটি টাকা মুনাফা দেখালেও ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের চাপ রয়ে গেছে। একই বছরে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ঘাটতি দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। বছরের শেষে সিআরএআর একক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ ছিল, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম মানের নিচে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান করেছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ছিল ২৮৮ কোটি টাকা, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকেও কাটেনি চাপ
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক এবং মো. শাহীনুল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান, এফসিএকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও এসব স্বতন্ত্র পরিচালক বহাল রয়েছেন।
২০২৫ সালে ব্যাংকটি ৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করলেও খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির চাপ কাটাতে পারেনি। বছর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৮০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৩৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। একই সময়ে সিআরএআর ছিল ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম মানের নিচে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির পরিচালন কার্যক্রম থেকেও নগদ প্রবাহ কমেছে। শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ২০২৫ সালের জুনে ১৫ টাকা ৮৯ পয়সা থাকলেও চলতি বছরের জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬৩ পয়সায়। পরিচালন কার্যক্রম থেকে নিট নগদ প্রবাহ ১ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা থেকে কমে ৮৭৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নগদ ও নগদ সমতুল্য সম্পদ ১০ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা থেকে কমে ৯ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায় নেমেছে। এতে ব্যাংকটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে নগদ অর্থের সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
দুর্বল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, অনিয়ম প্রতিরোধ করা এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্র দেখাচ্ছে, শুধু পর্ষদ পুনর্গঠন কিংবা স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরীর মতে, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করলেই ব্যাংকের সব অনিয়মের সমাধান হবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের দায়িত্ব হলো অনিয়ম চিহ্নিত করা, এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যাংককে আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করা। কিন্তু স্বতন্ত্র পরিচালকই যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সেটি ‘সরষের মধ্যে ভূত’ থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
তার মতে, অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে সৎ, দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির কাঠামো থাকতে হবে। শুধু যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাঁরা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন কি না, সেটিও নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি।
সামনে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার
চারটি ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধারের জন্য পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে, কিন্তু এটিই সমাধানের শেষ পথ নয়। দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি কাটাতে প্রয়োজন সমন্বিত সংস্কার।
স্বতন্ত্র পরিচালকদের দক্ষতা, সততা ও স্বাধীনতার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক পুনর্গঠনের জন্য বাস্তবসম্মত সময়সীমা ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। তা না হলে পর্ষদ পুনর্গঠন কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবেই থেকে যাবে; ব্যাংকের মৌলিক আর্থিক সংকটের সমাধান হবে না।
অতএব, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন পরিচালক নিয়োগ নয়, বরং সেই পরিচালকদের কার্যকরভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে টেকসইভাবে পুনর্গঠন করা। সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন, কঠোর জবাবদিহি এবং ধারাবাহিক তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
What's Your Reaction?