আমদানি-রপ্তানিতে হয়রানি বন্ধ ও পণ্য খালাস দ্রুত করতে এনবিআরের ১৩ দফা নির্দেশ

Aug 31, 2026 - 11:51
 0  3
আমদানি-রপ্তানিতে হয়রানি বন্ধ ও পণ্য খালাস দ্রুত করতে এনবিআরের ১৩ দফা নির্দেশ

আমদানি ও রপ্তানি চালানের কায়িক পরীক্ষার নামে অনাবশ্যক বিলম্ব ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ করতে দেশের সব কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী দাবির মুখে ৩০ আগস্ট রাজস্ব বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত ১৩টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করে কাস্টম হাউসগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা এনবিআরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের "ইজ অব ডুয়িং বিজনেস" বা ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১৩ নির্দেশনার প্রধান দিকসমূহ

  • নথিপত্র দাখিলে জটিলতা হ্রাস: এনবিআর নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত কোনো কাগজ জমা নেওয়া যাবে না। অনলাইনে যেসব নথি জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনো ম্যানুয়াল বা হার্ডকপি পুনরায় চাওয়া যাবে না।

  • অনাবশ্যক কায়িক পরীক্ষা বন্ধ: সুনির্দিষ্ট শুল্ক ফাঁকির তথ্য না থাকলে বারবার কায়িক পরীক্ষা চালানো যাবে না। শুধুমাত্র রাজস্ব ঝুঁকির ভিত্তিতেই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

  • কর্মকর্তাদের ওপর চাপ কমানো: কম ঝুঁকিপূর্ণ চালানের ফাইল অনাবশ্যকভাবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো বন্ধ করতে হবে।

  • সংস্থার মধ্যে সমন্বয়: শুল্ক অ্যাসেসমেন্টে অপ্রয়োজনীয় ধাপ এড়াতে হবে এবং একাধিকবার পরীক্ষা বন্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।

  • জট কমানো ও নিলাম গতিশীল করা: বন্দরে কনটেইনার জট রোধে তদারকি জোরদার করা, দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া শেষ করা এবং রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিক্রিয়া

মোহাম্মদ হাতেম (সভাপতি, বিকেএমইএ): "আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়গুলো তুলে ধরছি। শীর্ষ পর্যায়ের এই নির্দেশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে সৎ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকেরা উপকৃত হবেন এবং ব্যবসার খরচ কমবে। তবে প্রায়শই এনবিআরের নীতির সাথে মাঠপর্যায়ের কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রয়োগের বড় ফারাক দেখা যায়। বিশেষ করে নিম্নপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য ও অসহযোগিতার কারণে অনেক ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয় না।"

তিনি আরও জানান, অসৎ ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে গেলেও সামান্য ভুলের জন্য নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়রানির শিকার হয়। তাই অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মাঠপর্যায়ের কাস্টমস কর্মকর্তাদের শঙ্কা

এনবিআরের এই নির্দেশনার বাস্তবায়নে বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যমান পরিকাঠামোতে এসব নির্দেশ দ্রুত রূপায়ণ করা কঠিন এবং এতে রাজস্ব ঝুঁকির সম্ভাবনা থেকে যায়।

তার মতে, চালানের ঝুঁকি চিহ্নিত করার জন্য ASYCUDA World সফটওয়্যার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ছাড়া দেশের অন্যান্য শুল্ক ভবনে সঠিকভাবে কার্যকর নয়। সব কাস্টম হাউসে এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগে নিশ্চিত না করে এ ধরনের সরলীকরণ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow