১২৮ টাকার বেশি দামে ডলার বিক্রেতারা মানি চেঞ্জার নন: এমসিএবি
খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা বা তার বেশি নেওয়া ব্যক্তিরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার নন বলে দাবি করেছে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমসিএবি)। সংগঠনটি বলেছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কারা ডলারের দাম বাড়াচ্ছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।
খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২৮ টাকা বা তার বেশি নেওয়া ব্যক্তিরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার নন বলে দাবি করেছে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমসিএবি)। সংগঠনটি বলেছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কারা ডলারের দাম বাড়াচ্ছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমসিএবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে এসব কথা বলেন।এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এম এস জামান। বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।গৌতম দে বলেন, খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে থাকা উচিত। এর সঙ্গে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা যোগ করে ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণ করেছে এমসিএবি।তিনি বলেন, নির্ধারিত দরের বাইরে ডলার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গত কয়েক দিন এই দরেই লেনদেন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এমসিএবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১২৮ টাকা বা তার বেশি দামে যারা ডলার লেনদেন করছেন, তারা মানি চেঞ্জারদের প্রতিষ্ঠান নয়।তার দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডলারের দাম বাড়ানোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা রাষ্ট্রকে খুঁজে বের করতে হবে।ব্যাংক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ করেন গৌতম দে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো যাত্রীদের ডলার এনডোর্সমেন্ট করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের হাতে নগদ ডলার দিতে পারে না। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে নগদ ডলার কিনছেন।এ অবস্থায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।গৌতম দে বলেন, এক সময় ডলারের দাম ৪২ টাকা থাকলেও একজন যাত্রীর জন্য এক হাজার ডলার পর্যন্ত এনডোর্সমেন্টের সুযোগ ছিল। এখন ডলারের দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই সীমা মাত্র ২ হাজার ডলারে আটকে আছে। বর্তমান বাস্তবতায় এই সীমা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি।দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ী সৎভাবে ব্যবসা করছেন দাবি করে গৌতম দে বলেন, কোনো ব্যবসায়ী অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।তার ভাষ্য, নির্দিষ্ট প্রমাণসহ অবৈধ মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এক বছরেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।ডলারের বাজারে কারসাজি ও কালোবাজারি বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যৌথ মনিটরিং টিম গঠনের দাবিও জানায় এমসিএবি। সংগঠনটির দাবি, মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনকে তদারকির ক্ষমতা ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হলে বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সহজ হবে।ভ্যাট বা আয়কর ফাঁকির অভিযোগে বৈধ মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গৌতম দে বলেন, কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি মেনে নিতে তারা প্রস্তুত। তবে প্রমাণ ছাড়া বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা উচিত নয়।তিনি বলেন, বৈধ মানি চেঞ্জার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের সুষ্ঠু নীতি, কার্যকর তদারকি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করে এমসিএবি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রকৃত কারসাজিকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, বৈধ মানি চেঞ্জারদের হয়রানি বন্ধ, ব্যাংক ও মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্য দূর এবং যৌথ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে ডলারের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
What's Your Reaction?