সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এর মালিকানা ছাড়ার সিদ্ধান্ত সরকারের
দেউলিয়া হতে যাওয়া দেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানায় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের মাত্র ৯ মাসের মাথায় নিজেদের শেয়ার বা মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংকটির মালিকানায় বিদেশি ও বেসরকারি অংশীদার যুক্ত করার পরিকল্পনা থেকে ইতোমধ্যে কাতারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করা হয়েছে। একইসাথে অন্যান্য আগ্রহী মুসলিম দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আলোচনা সফল হলে কাতারের সঙ্গে অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হতে পারে। তবে বিদেশি মালিকানায় গেলে ব্যাংকটির বিশাল কর্মীবাহিনীর ছাঁটাই ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন পরিচালন পর্ষদ বা দায়িত্ব নেওয়া বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষে আগে থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এই একীভূত ব্যাংকে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। নবগঠিত ব্যাংকটিতে মোট ১৮ হাজার ৮১ জন কর্মী কর্মরত আছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৫ হাজার ৯৯৬ জন এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৪ হাজার ৩৯ জন। সারাদেশে ব্যাংকটির ৭৬১টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বিপুল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এই বিশাল খেলাপি ঋণের ধাক্কা সামলাতে, পরিচালন ব্যবস্থায় পেশাদারত্ব আনতে এবং আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে বিদেশি ও অভিজ্ঞ অংশীদার যুক্ত করার পথ বেছে নিচ্ছে সরকার।
What's Your Reaction?