ইরানের ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
ইরানের পেশ করা সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন-ইরান সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে চালুর সম্ভাবনা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং সামরিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে, যেখানে সপ্তাহের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, নির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত পূরণ হলে তেহরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থগিত হয়ে যাওয়া পরমাণু আলোচনা নতুন করে শুরু করতে সম্মত। এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করা, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে অবরুদ্ধ রাখা দেশটির আর্থিক সম্পদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। আরাগচি স্পষ্ট করেছিলেন যে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের এই উদ্যোগকে একবাক্যে বাতিল করে দিয়েছেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।’ ওয়াশিংটনের তরফ থেকে কড়া বার্তা আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী মহলে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেলপ্রতি ০.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.২২ ডলারে উঠে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথটি অবরুদ্ধ থাকা এবং তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের ছায়া ফেলছে।
What's Your Reaction?