কক্সবাজারের হোটেল কক্ষ থেকে নারীর রক্তক্ষয়ী মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ওয়াশরুম থেকে কুলসুমা আক্তার নামের এক নারীর রক্তসংক্রান্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকার আলমের মেয়ে। ঘটনার সময় ওই হোটেলের কক্ষে থাকা তাঁর দুই বছরের এক কন্যাসন্তানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক যুবকের সঙ্গে কুলসুমা ও শিশুটি হোটেলে ওঠেন এবং স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে প্রবেশপত্র বা রেজিস্টারে ঈদগাঁওয়ের ভাদিতলার ঠিকানা লেখেন। ঘটনার পরদিন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে কক্ষের সামনে গেলে ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরবর্তীতে কক্ষে প্রবেশ করে ওয়াশরুমে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের খবরে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে ঘটনাটির পরপরই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। কুলসুমার পরিবারের সদস্যরা জানান, হোটেলে সঙ্গে থাকা ওই যুবক কুলসুমার স্বামী হারুন নন এবং তাঁরা ওই যুবককে চেনেনও না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বামী হারুনের সঙ্গে চলমান একটি আইনি মামলার হাজিরা দিতেই কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন কুলসুমা।
মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতের সঙ্গে হোটেলে ওঠা যুবকটি তাঁর স্বামী নন। হোটেল রেজিস্টারে নাম ‘আরফান’ লেখা থাকলেও তাঁর প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ, অতিথি রেজিস্টার ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পলাতক ওই যুবককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
What's Your Reaction?