টিসিবির কার্ড পাওয়ার নতুন নীতিমালা প্রকাশ: সুবিধাভোগীর তালিকা স্পষ্ট করল সরকার

Sep 30, 2026 - 12:21
 0  8
টিসিবির কার্ড পাওয়ার নতুন নীতিমালা প্রকাশ: সুবিধাভোগীর তালিকা স্পষ্ট করল সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। পূর্বে কেবল 'নিম্ন আয়ের মানুষ' বলা হলেও নতুন এই নীতিমালায় প্রকৃত দুস্থ ও সুবিধাভোগীদের তালিকা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের ব্যক্তি, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক ও উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর মধ্যে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং দুস্থ শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে শর্ত হিসেবে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এ সুবিধা পাবেন না এবং আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে ১ কেজি চিনি এবং বরাদ্দ সাপেক্ষে ৫ কেজি চাল পাবে। এছাড়া রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

স্বচ্ছতা আনয়ন ও দুর্নীতি রোধে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত নতুন কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি ডিলারের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ঝুলন্ত মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করে তদারকি কমিটি গঠন করা হবে এবং বিক্রয়কেন্দ্রে কাজ করবে বিশেষ ‘ট্যাগ টিম’। তদুপরি, ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সুবিধাভোগীদের সব তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান যে পূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া কার্ড বাতিল করে নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সঠিক ব্যক্তিদের হাতে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে গত অর্থবছরের ২,৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকির ব্যয় কমে চলতি অর্থবছরে ২,৪০০ কোটি টাকায় নামবে বলে আশা করছে সরকার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow