মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হুথি আন্দোলনের পেছনের ইতিহাস
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে আবারও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা। ইয়েমেন থেকে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার কথা জানালেও, ঘন ঘন এ ধরনের হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো তদন্ত করে দেখছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কে এই হুথিরা এবং তাদের উত্থানের ইতিহাস? ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বৃহৎ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা মূলত একটি রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামরিক আন্দোলন। ১৯৯০-এর দশকে জায়েদি শিয়া সম্প্রদায়ের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে এদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতায় হুথিরা তাদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী করে তোলে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তারা রাজধানী সানা দখল করলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়। নিজেদের ‘আনসার আল্লাহ’ বা আল্লাহর সাহায্যকারী নামে পরিচয় দিলেও প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুথির নামানুসারে বিশ্বজুড়ে তারা ‘হুথি’ নামেই পরিচিত।
সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত ও ইরানের সংযোগ ইয়েমেনে ক্রমবর্ধমান ইরানি প্রভাব এবং সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ২০১৫ সালের শুরুতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কারণে হুথিদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি। ইরানের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর মিত্রতা থাকলেও হুথিরা নিজেদের সম্পূর্ণ স্বাধীন দাবি করে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইপারসনিক সক্ষমতা সম্পন্ন ‘প্যালেস্টাইন-২’ ও ‘তুফান’ এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ব্যবহারে তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
What's Your Reaction?