আয়ারল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান
আয়ারল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্পের কূটনৈতিক বিস্ফোরণ: আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক
আয়ারল্যান্ডে দুই দিনের এক সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় দুই আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে কথা বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিভক্ত থাকা আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে পুনরায় একত্রিত করা একটি "চমৎকার" ঘটনা হতে পারে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যা ভবিষ্যতে ঘটবে, তা এখনই হয়ে যাওয়া ভালো।
১৯২১ সালে আয়ারল্যান্ড দ্বীপটি বিভক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে’ চুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তির মূল শর্তই ছিল—দুই অঞ্চলের জনগণ নিজেরা চাইলে গণভোটের মাধ্যমে একত্রীকরণের সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও ট্রাম্পের এমন সরাসরি মন্তব্য ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতা গ্যাভিন রবিনসন এক্সে লিখেছেন, আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে যোগ দিয়ে নিজেদের দেশ ধ্বংস করার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই।
ডাবলিনে পৌঁছানোর পর আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির অভ্যর্থনা নেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধে মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্পের এই সফরের মূল আকর্ষণ ছিল কাউন্টি ক্লেয়ারের ডুনব্যাগ রিসোর্টে আয়োজিত আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট। ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ২০১৪ সালে এই বিলাসবহুল রিসোর্টটি কিনে নেয়। টুর্নামেন্ট চলাকালে ট্রাম্পের সুরক্ষায় প্রায় চার হাজার পুলিশ সদস্য ও বিশেষ স্নাইপার মোতায়েন করতে হয়। সমালোচকরা বলছেন, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প সরকারি সফরের আড়ালে তাঁর পারিবারিক গলফ ব্যবসার প্রচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
সফরকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে জটিল করে তুলতেই ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত ও সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করছে। তবে ভোটাররা পরিস্থিতি ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছেন বলে দাবি করেন তিনি।
What's Your Reaction?