ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের ১৭তম প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এই ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,২২২ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩,৩৯৮ জনের এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১,৬৭১ জন। মেসে মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়া এই সংক্রমণ বর্তমানে কঙ্গোর সপ্তম প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতুরি প্রদেশ থেকে উৎপত্তি হওয়া এই সংক্রমণ দ্রুত দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে বিস্তার লাভ করে। ওই অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্য অবকাঠামোর কারণে শুরুতেই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গো-ব্রাজাভিল সীমান্তবর্তী সাউথ-উবাঙ্গি প্রদেশেও নতুন করে ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়। বিশেষ করে ইতুরি প্রদেশের বুনিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক এবং শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ জন শিক্ষার্থী বসার কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে।
তবে সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, গত আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে ইবোলার সংক্রমণ সম্ভবত সর্বোচ্চ পর্যায় স্পর্শ করেছিল। বর্তমানে আক্রান্ত ৬১টি স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে ১০টিতে টানা ২১ দিন ধরে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি, যা ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা যৌথভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
What's Your Reaction?