ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন আজ, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
ইসরায়েলে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচন। দেশটির প্রধান দুই নির্বাচনি শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। নির্বাচনে দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে জয়ী হতে কোনো দল বা জোটের প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। তারা পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নির্বাচনের আগে প্রতিটি দল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয়। নেসেটে আসন পেতে কোনো দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ডানপন্থি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের প্রধান শক্তি। তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম। বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। এই শিবির নির্বাচনে জয়ী হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকটকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। টুগেদারের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সরকারপ্রধান হওয়ার দাবিদার।
গত শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে লিকুদ ও ইয়াশার উভয়েরই ২২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ৯টি করে আসন। জিউইশ পাওয়ার, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের প্রত্যেকের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৮টি। ইসরায়েল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেতে পারে ৭টি করে আসন। আর রা’আমের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫টি।
জরিপের এই হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষেরই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে গাদি আইজেনকটসহ বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা সম্ভব না হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি ইতোমধ্যে ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার সরকার গঠন করতে পারলে এটি হবে তার সপ্তম মেয়াদ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ওই হামলা ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু হামলার জন্য নিজের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধী নেতারা এ বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
ইসরায়েলের নির্বাচন নিয়ে গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আলজাজিরাকে বলেছেন, নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না বলে তিনি মনে করেন। তবে এরপরও তিনি নেতানিয়াহুর পরাজয় চান বলে জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?