দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পর সৌদিতে কারাবন্দি ভারতীয় শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

Oct 26, 2026 - 12:38
 0  7
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের পর সৌদিতে কারাবন্দি ভারতীয় শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক সাহাবুদ্দিন শেখের পরিবারে। মক্কায় দুই বাংলাদেশির চুম্বনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি পরিবার।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিন শেখ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক সাহাবুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় তার উপস্থিতিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক পরস্পরকে চুম্বন করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় পাকিস্তানের এক যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ওই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সৌদি পুলিশ সাহাবুদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করে।

মুর্শিদাবাদে সাহাবুদ্দিনের পরিবারের দাবি, নিছক মজা করার উদ্দেশ্যেই তিনি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। এর পরিণতি এত ভয়াবহ হতে পারে, তা সাহাবুদ্দিন কিংবা তার সঙ্গীরা কেউই বুঝতে পারেননি বলে দাবি পরিবারের।

সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেন, ‘ও বড় কোনো অপরাধ তো করেনি। একটা ভিডিও ছেড়েছে বলে এভাবে জেল খাটতে হচ্ছে!’

কোহিনুর বিবি জানান, তার ছেলে আট বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন এবং তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছেলের পাঠানো অর্থেই সংসার চলত। কিন্তু তিনি কারাগারে বন্দি থাকায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। কোনো রকমে দিন কাটছে তাদের।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে কোহিনুর বিবির। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের কী হবে জানি না। ভয়ে ভয়ে আছি।’

পরিবারের পক্ষ থেকে সাহাবুদ্দিনকে সৌদি আরবের কারাগার থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

এদিকে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতার। সৌদি আরবের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন’ করা।

দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কীভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কি না - এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow