যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ছিনতাই করা চারটি বিমান হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সামরিক অভিযান শুরু করে।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। সরাসরি সংঘাতে ৯ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ।
সাফল্য ও অর্জন সন্ত্রাসবিরোধী এই যুদ্ধের ফলে আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বিশেষ অভিযানে নিহত হন মূল হোতা ওসামা বিন লাদেন। তাছাড়া, উন্নত গোয়েন্দা সহযোগিতা, কঠোর বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর মতো বড় কোনো হামলা আর ঘটেনি।
ব্যর্থতা ও নতুন চ্যালেঞ্জ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি; বরং এর ভূগোল পরিবর্তিত হয়েছে। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল জঙ্গিবাদের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিভিন্ন শাখা স্থানীয় সংঘাত ও দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।
আফগানিস্তানে দীর্ঘ দুই দশক যুদ্ধের পর তালেবানের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং ইরাক যুদ্ধের ফলস্বরূপ আইএসের উত্থান মার্কিন সামরিক কৌশলের বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে তুলেছে। পাশাপাশি, প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট, ব্যাপক নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়েও বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
What's Your Reaction?