গাজীপুর সাফারি পার্কের চুরি যাওয়া লেমুর ভারতে উদ্ধার: ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি, ফিরিয়ে আনতে জটিলতা
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান মিলছে ভারতের গুজরাটে। আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের হাত ঘুরে প্রাণী দুটি বর্তমানে ভারতের শীর্ষ ধনকুবের অনন্ত আম্বানির জামনগরভিত্তিক বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘বনতারা’-তে রয়েছে। পাচারের পর বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বনতারার এক সহযোগীর কাছে বিক্রি করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিআইডি ও দৈনিক আজকের পত্রিকার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে সাফারি পার্কের আউটসোর্সিং নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের প্রত্যক্ষ মদদে জুয়েল নামে এক চোরাকারবারি লেমুর তিনটি চুরি করে। পরবর্তীতে মে মাসে কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু বাংলাদেশে এসে ১৭ লাখ টাকায় একটি প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শাবক কেনার চুক্তি করে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের পর হাতবদলের মাধ্যমে সেগুলো গুজরাটে পৌঁছায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনতারায় প্রকাশিত ছবির সাথে চুরি যাওয়া প্রাণীর মিল পেয়ে সিআইডি শনাক্ত করে। ঘটনায় জড়িত আট আসামির মধ্যে ছয়জনই ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে ভারতের কাছে লেমুর দুটি ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক পরিচয়ের অভাব। গাজীপুর সাফারি পার্কে দীর্ঘদিন থাকলেও লেমুরগুলোর শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ, আইডি নম্বর বা ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা হয়নি। এর ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী দুটিকে বাংলাদেশের সম্পত্তি হিসেবে আইনিভাবে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপর শাবক লেমুরটির ডিএনএ সংগ্রহ করে গুজরাটের লেমুর দুটির সঙ্গে বংশগত বা জিনগত সম্পর্ক মিলিয়ে ফেরত আনার চেষ্টা করছে সিআইডি।
What's Your Reaction?