অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানির গোপন তথ্য ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসা একটি বড় ধরনের সন্দেহজনক পণ্যের চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আমদানিকৃত চালানটির কায়িক পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ তামাকজাত সামগ্রী, মাদকের মতো সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ঘোষণার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ স্ক্র্যাপ পেপার উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, কলকাতা থেকে ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে করে আসা ডিএফএসইউ৬৭৫৩৮৪৯ নম্বরের একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর সন্দেহ হলে পরীক্ষা শুরু করা হয়। নথিপত্রে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হলেও ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কাস্টমসকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তারা এই চালানের বিষয়ে কিছুই জানেন না। কোনো অসাধু চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পণ্য আনার চেষ্টা চালিয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কাস্টমস গোয়েন্দাদের কায়িক পরীক্ষায় দুটি আলাদা বিল অব লেডিংয়ের আওতায় আনা মোট ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য জব্দ করা হয়। প্রথম বিএল-এ পান মসলা ও জর্দার ঘোষণা থাকলেও সেখানে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী এবং বাহ্যিকভাবে মাদকের মতো দেখতে বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডার পাওয়া গেছে। অন্য বিএল-এ মুদ্রিত কাগজের ক্যাটালগ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হলেও সেখানে পাওয়া গেছে প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্ক্র্যাপ পেপার।
উদ্ধারকৃত পাউডারজাত পদার্থে কোনো ধরনের মাদক বা ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একই সাথে জালিয়াতি ও সন্দেহজনক চালানের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ল্যাব রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।