খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত গোলাপজল ও কেওড়াজল

Aug 12, 2026 - 13:15
 0  5
খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত গোলাপজল ও কেওড়াজল

বিরিয়ানি, পোলাও, জর্দা কিংবা মিষ্টি তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত সুগন্ধি গোলাপজল ও কেওড়াজল নিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, বাজারে থাকা বহু পণ্যের গায়ে ‘ফুড গ্রেড’ বা ‘খাদ্যোপযোগী’ লেখা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক ও খাদ্যের অনুপযোগী সিনথেটিক উপাদান মেশানো হচ্ছে। এ কারণে যথাযথ লেবেলিং, সঠিক উপাদান বিবরণ ও অনুমোদন ছাড়া খোলাবাজারের এসব সুগন্ধি রান্নায় ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় আচার বা বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি সিনথেটিক কেমিক্যালযুক্ত তরল বিভ্রান্তিকর মোড়কে বাজারজাত করছে। ডেমরায় কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত রাসায়নিক মিশিয়ে সুগন্ধি তৈরির প্রমাণ পেয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও উৎপাদিত পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিএফএসএর তথ্যমতে, অনেক কোম্পানি খাদ্যে ব্যবহারের কোনো অনুমোদন বা ল্যাব টেস্ট ছাড়াই কেবল ‘বিশুদ্ধ পানি’ ও ‘ফ্লেভার’ লিখে এসব বিক্রি করছিল, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ অনুযায়ী, খাদ্যের সুগন্ধিতে ব্যবহৃত উপাদানের সুনির্দিষ্ট নাম, কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক কি না এবং প্রয়োজনীয় আইএনএস (INS) কোড উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ভুয়া তথ্য বা অসদুপায়ে লেবেলিং করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিয়েবাড়ির বাবুর্চি, রেস্তোরাঁ ও সাধারণ ভোক্তারা অসচেতনতাবশত ভেষজ উপাদান ভেবে এগুলো ব্যবহার করায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএফএসএ বাবুর্চি ও রেস্তোরাঁ কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান এগুলোকে 'খাবারের জন্য নয়' বলে দাবি করছে, তাদের বোতলের গায়ে সুস্পষ্টভাবে ‘খাদ্যোপযোগী নয়’ বা ‘নন-ফুড গ্রেড’ লেখা বাধ্যতামূলক করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাজারে প্রচলিত এসব তরলের উৎস ও রাসায়নিক উপাদান নিয়ে বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, উপাদানের স্পষ্ট বিবরণ ও সরকারি অনুমোদন যাচাই না করে কেবল নাম দেখে কোনো গোলাপজল বা কেওড়াজল খাবারে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow