গ্যাস ও কয়লা সংকটে দেশে ফের বেড়েছে লোডশেডিং
কয়েক দিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যেখানে গত সোমবার সর্বোচ্চ ৩,২১৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটি। সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বর্তমানে মাত্র ৪,৬০০ থেকে ৪,৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। কয়লার অভাবে রামপাল কেন্দ্রে উৎপাদন নেমেছে ৪৫০-৫০০ মেগাওয়াটে, আর সংস্কার না করায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে ৫০০ মেগাওয়াটের ঘরে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ১,০০০-১,১০০ মেগাওয়াটে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে ১৬২ কোটি ঘনফুটে নামায় এবং এলএনজি আমদানিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গো আমদানি ব্যাহত হলেও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে এবং চলতি মাসের ৭টি নিশ্চিত কার্গো পৌঁছালে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
What's Your Reaction?