তীব্র জ্বালানি সংকট ও গরমে রেকর্ডভাঙা লোডশেডিং: বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ শুরু না হওয়া, জ্বালানি তেল ও কয়লার সংকট এবং টানা দুই দিন বৃষ্টির অভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছে। গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ঘাটতিতে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিপুল ব্যবধান। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেট এলএনজির ভাসমান টার্মিনাল থেকে সীমিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও মোট ২ হাজার ৩৫২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে বাড়তি গ্যাস দেওয়া হয়েছে শিল্প খাতে। বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ ছিল মাত্র ৬৮৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিললেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে।
গ্যাস সংকটে ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কয়লা সংকটে পটুয়াখালী কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটও বন্ধ। অন্যদিকে, বকেয়া বিল না পাওয়ায় ফার্নেস অয়েলচালিত ৩৫টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও দিনের বেলায় সর্বোচ্চ মাত্র ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে।
লোডশেডিংয়ের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যানুযায়ী, তাপমাত্রার বৃদ্ধির সাথে সাথে রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
| সময় | লোডশেডিংয়ের পরিমাণ (মেগাওয়াট) |
| রাত ১২:০০ | ৩,৬০৮ (রাতের সর্বোচ্চ) |
| রাত ১:০০ – ভোর ৫:০০ | ৩,৫০৫ থেকে ৩,১৪০ |
| দুপুর ১২:০০ | ৩,৩১২ |
| বেলা ৩:০০ | ৩,৬৭১ (সার্বক্ষণিক নতুন রেকর্ড) |
| বিকাল ৪:০০ – ৫:০০ | ৩,৩৬৩ থেকে ২,৯৬৭ |
আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা
এর আগে ৩ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট, ২৮ জুন রাত ২টায় ৩ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট এবং ২০২৩ সালের ৭ জুন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমানের ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং পূর্বের সব রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সমস্যার দ্রুত সমাধান না হওয়ায় আবহাওয়া ঠান্ডা না হলে বা বৃষ্টি না হলে এ পরিস্থিতি সহসা স্বাভাবিক হচ্ছে না।
What's Your Reaction?