বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলল ইরান
আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমাবিশ্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারি তথ্য, সংবাদ ও দাপ্তরিক খবরাখবর প্রকাশের ওপর জারি থাকা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের দফপ্তরের কর্মকর্তা আব্বাস পাজুকি। এতদিন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার কঠোর সমালোচনা করে সংগঠনটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক কৌশলগত বড় পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে পাজুকি উল্লেখ করেন, বিদেশি মেসেজিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্জনের পূর্ববর্তী নির্দেশিকার ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুয়া তথ্য ও গুজবের আধিপত্য তৈরি হয়েছিল। আসল সরকারি কর্তৃপক্ষ অনুপস্থিত থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ স্বহস্তে বিরোধী পক্ষ ও শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমের জন্য মনস্তাত্ত্বিক ট্রাইব্যুনাল ছেড়ে দিয়েছিল, যার চড়া মাশুল দেশকে গুনতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে এখন থেকে দ্রুততম সময়ে সরকারি বয়ান তুলে ধরাই তেহরানের মূল লক্ষ্য।
তবে সরকারি প্রচারণার ক্ষেত্রে পশ্চিমা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ছাড় দেওয়া হলেও সাধারণ ইরানি নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট সেন্সরশিপে কোনো শিথিলতা আনা হয়নি। দেশটির সাধারণ জনগণ এখনো চরম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং নিত্যদিনের মেসেজিং কিংবা সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে ভিপিএন (VPN)-এর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সাধারণের ওপর সেন্সরশিপ বহাল রেখে কেবল সরকারের নিজেদের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নীতিগত বৈষম্য তৈরি করলেও কৌশলগত দিক থেকে বিষয়টিকে পশ্চিমা প্রচারণার সমান্তরালে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?