মুন্সীগঞ্জে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ: আক্রান্ত ১৮০০ ছাড়াল, হাসপাতালে ঠাঁই নেই
মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলাটির ছয়টি উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে কেবল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন ১,৫১২ জন। চলতি আগস্ট মাসেই রেকর্ড ৮১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন। সরকারি হিসাব মতে জেলায় এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল।
রোগীর এই লাগামহীন চাপে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চরম শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের ছয়তলা ভবনের বারান্দা ও মেঝেতে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন। স্থানীয় চিকিৎসাসেবা হিমশিম খাওয়ায় গুরুতর রোগীদের নিয়মিত ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকায় রেফার করা রোগীদের মৃত্যুর তথ্য স্থানীয় পরিসংখ্যানে যুক্ত না হওয়ায় বাস্তবে জেলাটির মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে মশার বংশবৃদ্ধি ও অসচেতনতার কারণে জুন মাস থেকেই মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে, যা গত বছরের পুরো ১২ মাসের মোট রেকর্ডকেও (১,৪১০ জন) ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে। সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বাসিন্দাদের জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল যেমন বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পানি, পাত্র ও টব নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
What's Your Reaction?