বিপিএলে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবির লাল কার্ড
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে ম্যাচ ফিক্সিং, দুর্নীতির তথ্য গোপন এবং তদন্তকাজে অসহযোগিতার মারাত্মক অভিযোগে সাবেক এক বোর্ড পরিচালকসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আচরণবিধি (২০২৪) লঙ্ঘনের দায়ে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের দীর্ঘ তদন্তের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত তিনজনকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযুক্ত তিন ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক (২০২৫-২০২৬) ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানি।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক পরিচালক মুখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপিএলে সরাসরি ম্যাচ পাতানো বা ম্যাচের গতিবিধি প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেওয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব গোপন রাখা এবং যোগাযোগের তথ্য মুছে ফেলে তদন্তকাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। একইভাবে সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি ফিক্সিংয়ের চেষ্টা, অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করা ও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও দ্রুততম সময়ে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাদের না জানানো এবং তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অভিযুক্ত তিনজনকে নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কারণ দর্শানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশের ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাটি আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে, বিষয়টি একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।
What's Your Reaction?