রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

Oct 27, 2026 - 12:43
 0  5
রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে পবিত্র রমজানের আগেই ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা। রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

তবে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আমদানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাদের দাবি, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খেজুর আমদানির খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে রমজানকে সামনে রেখে বাজারে পণ্য সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে।

আমদানিকারকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা অব্যাহত থাকলে আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের জন্য একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত দামের তুলনায় বেশি শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করায় শুল্কের পরিমাণ ও সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফল আমদানিতে আরও নমনীয় করব্যবস্থা চালুরও দাবি জানান তারা। তাদের যুক্তি, উচ্চ শুল্কের কারণে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বৈঠকে আলোচনা হয়, আমদানি শুল্ক নির্ধারণের দায়িত্ব এনবিআরের হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কর্মকর্তারা জানান, এ-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমদানিকারকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow