রাষ্ট্রীয় মালিকানা পেলেও সরকারি কর্মচারী নন কর্মীরা
দেউলিয়া হতে যাওয়া পাঁচটি বেসরকারি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক - ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, এক্সিম, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। আর্থিক সংকট থেকে বাঁচাতে ২০,০০০০০ কোটি টাকা সরকারি মূলধন জোগান দিয়ে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে এটিকে গঠন করা হলেও, নতুন এই উদ্যোগের পেছনে সামনে এসেছে ‘মালিকানা ও চাকরির পরিচয়’ পৃথক করার এক ভিন্ন বাস্তবতা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হলেও এই ব্যাংকের কর্মীরা সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা পাচ্ছেন না। সরকারি চাকরিবিধির পরিবর্তে ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ বিধিমালা, বেতন কাঠামো, গ্রেড, জ্যেষ্ঠতা ও শৃঙ্খলা বিধিমালার অধীনে পরিচালিত হবে তাদের চাকরি। ব্যাংকটির শীর্ষ পদ অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালকও (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ৩ বছরের চুক্তিভিত্তিক শর্তে। ফলে সরকারি নথিতে ব্যাংকটি ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান’ হলেও, এর ১৮ হাজার ৮১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মূলত নিজস্ব চাকরিবিধির অধীনে কর্মরত থাকবেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারকের তথ্য অনুযায়ী, ধসে পড়া পাঁচ ব্যাংক ও এর কর্মীদের সুরক্ষায় আপাতত রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে উপযুক্ত দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে ব্যাংকটিকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ফলে সরকারি চাকরির স্থায়ী নিরাপত্তা না থাকায় কর্মীদের ভবিষ্যতের চাকরি এবং কর্মশর্ত পরিবর্তন নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিশাল বোঝা (যা মোট ঋণের ৮৪.২২ শতাংশ) নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে মূলধন সংকট মেটাতে আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর মতে, সরকারি মালিকানাধীন হলেও এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। বেসিক ব্যাংকের মতো এটিও আইনের ভিত্তিতে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। তাই রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকার পরও কর্মচারীদের সরকারি কর্মচারী হিসেবে দাবি করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
What's Your Reaction?