শাস্তির মুখে ১১ বোর্ডের ৮ হাজার শিক্ষক, হচ্ছে নতুন ‘পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা’
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অতিরিক্ত (ওভার মার্কিং) কিংবা কম (আন্ডার মার্কিং) নম্বর দেওয়ার অভিযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। চলতি বছরের ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়ায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে গত বছরের গাফিলতির বিষয়গুলোকেও আমলে নেওয়া হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে পরীক্ষকদের আগামী দুই বছরের জন্য উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করতে একটি সমন্বিত ‘পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, নীতিমালায় ওভার ও আন্ডার মার্কিংয়ের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হবে, যার বাইরে গিয়ে নম্বর দিলে শিক্ষকদের কড়া জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দ্রুত আলোচনার পর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছর ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল বদলে ৪ হাজার ৫৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছে, নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন এবং মোট ৫৬ হাজার ২৫৯টি খাতার নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বোর্ড পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুলের প্রমাণ পাওয়ায় ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছরের জন্য সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষার খাতা দেখা থেকে বিরত রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ৩৪টি কেন্দ্রের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়ে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলেছে।
গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুযায়ী, পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তদন্তে সাধারণ অসাবধানতা ও ইচ্ছাকৃত অনিয়ম আলাদাভাবে চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
What's Your Reaction?