ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা: নিহত অন্তত ১০, ধ্বংসের মুখে পরিকাঠামো ও অর্থনীতি
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। দেশটির একাধিক অঞ্চলের স্থানীয় কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু আবাসিক ভবন, পেট্রোল পাম্প, বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং জরুরি বিদ্যুৎ পরিকাঠামো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এক সকালে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্মুখযুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে মস্কো এখন ইউক্রেনের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আঘাত হানছে, যাতে দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে।
অঞ্চলভিত্তিক হামলার চিত্র ও প্রাণহানি
-
ক্রামাতোরস্ক: রণক্ষেত্রের কাছাকাছি এই শহরে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি সাধারণ বেসামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়, যার ফলে ৩ জন নিহত ও ৪ জন আহত হন।
-
জিতোমির (জভিয়াহেল): একটি মুদি দোকান, দুটি পেট্রোল পাম্প এবং একটি বিদেশি বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানে হামলায় ২ জন নিহত হন।
-
জাপোরিঝিয়া ও ক্রিভি রিগ: জাপোরিঝিয়ায় ২ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিগে গভীর রাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।
-
ওদেসা বন্দর: শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় ওদেসা বন্দরে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে রুশ সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা জাপোরিজস্তাল ইস্পাত কারখানা, দাইনিপ্রোর ইন্টারপাইপ স্টিল কমপ্লেক্স এবং ওদেসা ও চোরনোমোর্স্ক বন্দরে থাকা সামুদ্রিক জাহাজে সফল আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের তোলিয়াত্তিতে অবস্থিত একটি সিনথেটিক রাবার কারখানায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হতো। উভয় পক্ষই একে অপরের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরবরাহবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা জোরদার করায় সংঘাত নতুন মাত্রায় রূপ নিয়েছে।
What's Your Reaction?